কথা বলুন
‹ ইনসাইটস

২৯ আগস্ট ২০২৬  |  কমপ্লায়েন্স

ভ্যাট রিটার্ন এখন শুধু অনলাইনেই

১ জুলাই থেকে কাগজে ফাইলিং বন্ধ। আপনার খাতাপত্রের কাছে এটা আসলে কী দাবি করছে, আর বদলটার কোন অংশে এখনো ব্যবসাগুলো হোঁচট খাচ্ছে, তা এখানে।

কী বদলাল

২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে বাংলাদেশে ভ্যাট রিটার্ন জমা পড়ে অনলাইনে, এনবিআর ভ্যাট অনলাইন পোর্টালে, মূসক ৯.১ ফর্মে। কাগজে ফাইলিং তুলে দেওয়া হয়েছে। এটা আর কাগজের পাশাপাশি চলা কোনো বিকল্প নয়। ঢোকার একমাত্র পথ এটাই।

নিবন্ধিত বেশিরভাগ ব্যবসা ফাইল করে মাসে মাসে, সাধারণত কর মেয়াদ শেষের ১৫ দিনের মধ্যে। সরকারি ও আধা-সরকারি সংস্থা, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বিমা আর শূন্য রিটার্ন দেওয়া ব্যবসাগুলো চলে আলাদা সূচিতে: কোয়ার্টার শেষের ২০ দিনের মধ্যে ত্রৈমাসিক, নয়তো পরের মাসের শেষ দিনের মধ্যে মাসিক।

যেখানটায় মানুষ ধরা খেল

বদলের আগে এনবিআর চেয়েছিল, আগে কাগজে জমা দেওয়া রিটার্নগুলো হার্ড কপি রিটার্ন এন্ট্রি মডিউল দিয়ে ই-ভ্যাট সিস্টেমে তুলে ফেলা হোক। সেই সময়সীমা বাড়িয়ে করা হয়েছিল ২০২৬ সালের ৩০ জুন।

তখনকার সংবাদে পরিণতিটা রাখঢাক ছাড়াই লেখা হয়েছিল। যারা এটা ফসকেছে, তাদের ২০২৬ সালের মে মাসের ক্লোজিং ব্যালান্স জমে যেতে পারে, আর ভ্যাট রিফান্ড দাবির যোগ্যতাও হারাতে পারে।

আপনার বেলায় এটা ঘটে থাকলে সমস্যাটা মে মাসে আটকে নেই। তারপরের প্রতিটা মাস উত্তরাধিকারে পেয়েছে এমন এক ওপেনিং ব্যালান্স, যা পোর্টাল নিচ্ছে না; আর তার ওপরে জমা দেওয়া প্রতিটা রিটার্ন দাঁড়িয়ে আছে এমন এক সংখ্যায়, যা আপনার নিজের লেজারের সাথেই মেলে না।

সব ঠিকঠাক গেছে মনে হলেও এটা মিলিয়ে দেখা দরকার। উপসর্গটা নিঃশব্দ: আপনার রিটার্ন জমা হয়ে যায়, শুধু পোর্টাল যে ব্যালান্স বইছে, তা আপনার হিসাবের মে-শেষের ব্যালান্স নয়।

অনলাইন ফাইলিং আপনার হিসাবের কাছে আসলে যা চায়

নিয়ম বদলেছে এক লাইনে। তার পেছনের কাজ বদলেছে তার চেয়ে বেশি।

  • আপনার রেকর্ড প্রতি মাসে, মাসের মাঝামাঝির মধ্যে হালনাগাদ থাকতে হবে। কাগজের ফাইলিং শেষবেলার জোড়াতালি সয়ে নিত। নির্দিষ্ট মাসিক সময়সীমার পোর্টাল সয় না, আর হিসাবরক্ষক ছুটিতে ছিলেন বলে সময়সীমাও সরে না।
  • পোর্টাল সংখ্যা চায় নির্দিষ্ট এক ছাঁচে। আপনার লেজার সেই ছাঁচে না দিলে মাসে একবার কেউ বসে ফর্মে সংখ্যা নতুন করে টাইপ করে। ভুল ঢোকে ওই টাইপ করার সময়েই, আর এখন তা ঢোকে এমন এক সিস্টেমে, যা সব মনে রাখে।
  • কেনা আর বিক্রি মিলতে হবে এমন কাগজের সাথে, যা আপনি দেখাতে পারবেন। আলমারির কাগজের ফাইল যেভাবে খোঁজা যেত না, অনলাইন রেকর্ড সেভাবে খোঁজা যায়। ধারটা দুদিকেই কাটে।
  • শূন্য রিটার্নও একটা রিটার্ন। চুপচাপ মাস মানে ছুটির মাস নয়। লেনদেনহীন ব্যবসাকেও ফাইল করতে হয়, আর ফসকে যাওয়া শূন্য মাসগুলোই এমন কমপ্লায়েন্স ইতিহাস বানানোর সবচেয়ে সোজা পথ, যা পরে আপনাকে ব্যাখ্যা করতে হবে।

এই মাসে মিলিয়ে দেখার মতো চারটা জিনিস

  1. আপনার মাস কি মোটামুটি ১০ তারিখের মধ্যে ক্লোজ হয়, যাতে সময়সীমার আগে ফাঁক থাকে; ঠিক শেষ দিনে গিয়ে ধরা নয়।
  2. পোর্টালের ওপেনিং ব্যালান্স কি মেলে আপনার নিজের হিসাব ২০২৬-এর মে যেখানে শেষ করেছিল তার সাথে।
  3. যিনি ফাইল করেন, তিনি কি স্প্রেডশিট থেকে নতুন করে টাইপ না করেই সংখ্যাগুলো পান।
  4. আপনার শূন্য মাসগুলো কি কেউ ফাইল করছে, আর করা হয়েছে বলে আপনি কি দেখাতে পারবেন।

আমরা থামি যেখানে

আপনার ভ্যাট রিটার্ন আমরা ফাইল করি না। ওটা আমাদের কাজ নয়, আর এই সাইটের প্রতিটা পাতায় আমরা তা বলেও রাখি। আমরা যা করি তা হলো রিটার্ন যে রেকর্ডের ওপর দাঁড়িয়ে, সেই রেকর্ড রাখা; যাতে ফাইলিং হয় ছোট একটা কাজ, নতুন করে হিসাব বানানো নয়, আর যে সংখ্যা জমা দিচ্ছেন তার পেছনে আপনি দাঁড়াতে পারেন।

হিসাব পিছিয়ে থাকলে আর সময়সীমা এখন প্রতি মাসের সমস্যা হয়ে দাঁড়ালে, আগে যেটা করতেই হবে তা হলো জমে থাকা হিসাব ঠিক করা। আর হিসাব হালনাগাদ অথচ মাসের ক্লোজ মানেই দৌড়ঝাঁপ, তাহলে সেটা হিসাব রাখার কাজ

যাচাই করা হয়েছে ২৯ আগস্ট ২০২৬-এ। আমরা যেমন পেয়েছি, অবস্থানটা তেমনই লেখা, নিচে সূত্রসহ। ট্যাক্সের নিয়ম বদলায়, আর এই পাতাটা লাইভ রেফারেন্স হিসেবে রাখা হয় না। কোনো কিছু করার আগে বর্তমান অবস্থানটা এনবিআর বা যিনি আপনার রিটার্ন ফাইল করেন তাঁর কাছে নিশ্চিত করে নিন।

সূত্র

  • এনবিআর ভ্যাট অনলাইন পোর্টাল, মূসক ৯.১ ফাইলিংয়ের বাধ্যবাধকতা আর মাসিক সময়সীমা
  • ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট পরামর্শ সভা, অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন পুরোপুরি বাধ্যতামূলক করা নিয়ে
  • হার্ড কপি রিটার্ন এন্ট্রির সময়সীমা ২০২৬-এর ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো আর ২০২৬-এর মে মাসের ক্লোজিং ব্যালান্সের পরিণতি নিয়ে সংবাদ

শুরু হোক আপনার হিসাব একবার দেখা দিয়ে।

ত্রিশ মিনিট, কোনো খরচ নেই। সৎভাবে বলে দেব আমরা কাজে লাগব কি না, আর লাগলে খরচ কত।

ফ্রি হিসাব রিভিউ দাম দেখুন